advertisement
advertisement

আন্তরিকভাবে 'স্যরি' বলার কৌশল


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আন্তরিকভাবে 'স্যরি' বলার কৌশল

ছবি সংগৃহীত

advertisement
ধরলা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক : 
ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা মনোমালিন্য তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক টানাপোড়েন বা মানসিক অস্থিরতার কারণে কখনো কাছের মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা কিংবা দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার মতো ঘটনাও ঘটে। তবে নিজের ভুল উপলব্ধি করে যথাযথভাবে ক্ষমা চাইলে সম্পর্কের দূরত্ব কমানো এবং পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমা চাওয়া শুধু ভুল স্বীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এটি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনস্তত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোনাল্ড সিগেলের মতে, কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে কে বেশি দায়ী, তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে অনেকেই নিজের ভূমিকা উপলব্ধি করতে পারেন না। অথচ সম্পর্কের বন্ধন পুনর্গঠনের জন্য নিজের অবস্থানের পাশাপাশি অপর ব্যক্তির কষ্টও বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। কে ঠিক বা কে ভুল, সেই হিসাবের বাইরে গিয়ে অপর পক্ষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের প্রয়াত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্ষমা বিষয়ে গবেষক ডা. অ্যারন লাজারে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, নিজের ভুলের দায় স্বীকার করতে হবে। আচরণের কারণে অন্য ব্যক্তি যে কষ্ট পেয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে মেনে নেওয়া জরুরি। অস্পষ্ট বক্তব্য কিংবা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ক্ষমা প্রার্থনার আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, তবে সেটিকে অজুহাত হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। কেন ভুলটি হয়েছে, তা সংক্ষেপে জানানো উচিত। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিকেই অন্যের প্রতি খারাপ আচরণের বৈধতা হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। প্রয়োজনে স্পষ্টভাবে বলতে হবে, নিজের আচরণের পক্ষে কোনো অজুহাত নেই।
তৃতীয়ত, অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। ভুলের কারণে অপর ব্যক্তি যে মানসিক কষ্ট পেয়েছেন, তার জন্য দুঃখ ও অনুতাপের কথা সরাসরি জানানো প্রয়োজন। এতে বোঝা যায়, ক্ষমা চাওয়াটি কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা নয়, বরং নিজের আচরণ নিয়ে প্রকৃত উপলব্ধির প্রকাশ।
চতুর্থত, ভুলের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ থাকতে হবে। শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিজের আচরণে কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া যেতে পারে।
ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ ও বাক্যও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ‘আমার ব্যবহারের জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। অফিসে কাজের চাপ ছিল, কিন্তু সেই কারণে তোমার সঙ্গে এমন আচরণ করা আমার উচিত হয়নি’—এ ধরনের বক্তব্যে নিজের ভুলের দায় স্বীকারের পাশাপাশি পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়।
অন্যদিকে, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে’ কিংবা ‘তুমি যদি এতটা সংবেদনশীল না হতে’—এ ধরনের মন্তব্য ক্ষমা প্রার্থনার পরিবর্তে অপর ব্যক্তির অনুভূতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতে ভুলের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা প্রকাশ পায় এবং সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার মূল ভিত্তি হলো নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া, অপরের অনুভূতিকে সম্মান করা এবং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। অহংকার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রবণতা সরিয়ে রেখে এই বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারলে সম্পর্কের পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। সুত্র-ইত্তেফাক
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর